প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 30, 2026 ইং
আবারও পেছাল সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। নতুন করে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় সময় আবেদন করা হয়। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নবমবারের মতো সময় পেলেন। বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় সামিরা হকের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সালমান শাহ নামে পরিচিত চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ছিলেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ।
পরিবারের সদস্যদের সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল। বাসায় গিয়ে তারা সালমানের স্ত্রী সামিরা ও কর্মচারী আবুলের কাছ থেকে জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন। একই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও তার সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান।
সালমান ঘুমিয়ে আছেন জানতে পেরে তার বাবা-মা পরে আবার আসার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, তার ছেলের ‘যেন কী হয়েছে’।
খবর পেয়ে দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে সালমানকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, তখন কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একজন নারী সেখানে বসে ছিলেন। এ সময় সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পরে সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তার মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। নতুন করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে তাই ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সময় চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।